চা শ্রমিকদের ফাগুয়ায় পূর্ণ বোনাস ও বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরির দাবি
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 03 Mar, 2026
চা শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ফাগুয়া (লাল পূজা) উপলক্ষে পূর্ণ উৎসব বোনাস ও বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মজুরি প্রদানের দাবি জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘ।
ফাল্গুন মাসের দোল পূর্ণিমায় এ উৎসবটি পালিত হয়।
আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল অলমিক এবং সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা অভিযোগ করেন, অনেক চা বাগান কর্তৃপক্ষ পূর্ণ বোনাস দেওয়ার পরিবর্তে আংশিক বোনাস দেয়।
গত ৩ মার্চ থেকে দোল উৎসব শুরু হলেও অধিকাংশ বাগানে নির্ধারিত উৎসব বোনাসের বদলে হাজিরা-ভিত্তিক বা ইনসেন্টিভ বোনাস দিয়েছে। এতে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া ও চাতলাপুরসহ বেশ কিছু বাগানে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।
শ্রমিক নেতারা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫-এর ধারা উল্লেখ করে বলেন, একই শিল্পে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত সকল শ্রমিককে সমান হারে উৎসব বোনাস দিতে হবে।
এছাড়া, ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট প্রকাশিত চা শিল্প খাতের ন্যূনতম মজুরি গেজেটেও সব শ্রমিকের জন্য সমান উৎসব বোনাসের বিধান রয়েছে বলে তারা জানান।
বোনাস নিয়ে এই অনিয়মের প্রতিবাদে শমসেরনগর চা বাগানের শ্রমিক রামনারায়ণ গৌড় সিলেট শ্রম আদালতে একটি মামলা করেছেন। এছাড়া ক্যাজুয়াল বা অনিয়মিত শ্রমিকদেরও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।
চা শ্রমিক সংঘের প্রকাশনা সম্পাদক কাজল হাজরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বাংলাদেশ চা সংসদের সাথে গত ৭ আগস্ট কোনো প্রকার মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াই ২০২৩-২৪ মেয়াদের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, যা অথ্যন্ত খারাপ হয়েছে। ২০২৫-২৬ মেয়াদের ১৪ মাস পার হয়ে গেলেও নতুন মজুরি চুক্তিরও কোনো অগ্রগতি নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রায় ২০০ বছর ধরে চা শ্রমিকরা এই শিল্পের উন্নয়নে শ্রম দিলেও তারা চরম অবহেলিত। চা উৎপাদনের বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নবম হলেও শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি এখনও ২০০ টাকার নিচে।
৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের পর বর্তমানে দৈনিক মজুরি 'এ' ক্লাস বাগানে ১৮৭.৪৩ টাকা, 'বি' ক্লাস বাগানে ১৮৬.৩২ টাকা এবং 'সি' ক্লাস বাগানে ১৮৫.২২ টাকা।
নেতারা দাবি করেন, বাংলাদেশের ৪৩টি শিল্প খাতের মধ্যে চা শ্রমিকদের মজুরি সর্বনিম্ন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তুলনা করে তারা দেখান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৫০ রুপি ও সিকিমে ৫০০ রুপি, শ্রীলঙ্কায় ১ হাজার ৭০০ রুপি, নেপালে মাসিক ন্যূনতম ১৫ হাজার রুপি দেওয়া হয়।
বর্তমান বাজারদরে একজন শ্রমিকের কেবল তিনবেলার খাবারের জন্যই দৈনিক অন্তত ২৫০ টাকা প্রয়োজন। আর ছয় সদস্যের একটি পরিবারের নূন্যতম জীবনধারণের জন্য দৈনিক এক হাজার টাকা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেন।
মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারদর বিবেচনা করে চা শ্রমিক সংঘ জীবনধারণের উপযোগী মজুরি, বার্ষিক ১৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টসহ তাদের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

